মশলার রানী এলাচ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন | Benefits of Cardamom

এলাচ এর পুষ্টিগুন ও উপকারিতা: (Benefits of Cardamom) |

সুগন্ধি মসলা হিসাবে এলাচ ফলের আমাদের রান্নাঘরে যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে। এটি বিভিন্ন রান্নায় যুক্ত করে অনন্য গন্ধ ও স্বাদ বৃদ্ধি করা হয়। এটি অনেক মসলার মিশ্রণ “গরম মশলার” এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে আমাদের অনেকেই এই মসলার স্বাস্থ্য বেনিফিট সম্পর্কে জানি না । স্বাস্থ্যের জন্য এলাচের উপকারিতা বর্নণা করে শেষ করা যাবে না। এখানে এলাচ থেকে আপনি যে সকল স্বাস্থ্য বেনিফিট আহরণ করতে পাড়বেন তা তুলে ধরা হল।

পরিচিতি:

এলাচি গাছ আদা গাছের মতো গুচ্ছাকারে জন্মে। তবে পাতা আদার থেকে বড়, ঘন, সবুজ; শিরা সমান্তরাল ও সুগন্ধযুক্ত। এটি বর্ষজীবী হতে পারে। লম্বা পুষ্পদণ্ডের চারদিকে একাধিকে একাধিক এলাচি ধরে।
এলাচি আকারে গোল না হয়ে কিছুটা লম্বাকৃতির হয় এবং এর মধ্যে ধূসর বা তামাটে রঙের অনেকগুলি বীজ থাকে। বীজধারসহ পুরো এলাচি মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এলাচি সাধারণত বছরে দুইবার জন্মে। এর মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের এলাচি মানে উত্‍কৃষ্ট। এ ছাড়া এক ধরনের বড় এলাচি রয়েছে। বোটানিক্যাল নাম ‍Amomoum Sadulatium Rob.পাতসহ এর কাণ্ড এক মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফুল সাদা ও ফল হলুদ বর্ণের। পাকা ফল হলুদ বর্ণ ধারণ করলে ফলগুলোকে আহরণ করে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকানো হয়। এলাচি ফল সাধারনত ১-২ সে.মি. লম্বা কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা বর্গাকার তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি ক্যাপসুল জাতীয় ফল। প্রতি ফলে ৫-১২টি প্রায় ৪ মি.মি. লম্বা ও ৩ মি.মি. চওড়া বীজ থাকে। বীজগুলো হলেদে- বাদামি বা লালচে বাদামি বর্ণের হয়। এরা কড়া সুগন্ধ ও স্বাদযুক্ত।

ঔষধি গুন:

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধ করে:

এলাচ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধ করে, অ্যাসিডিটি দূর করতে চিবাতে পারেন একটি এলাচ। এটি ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে সক্রিয় রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। পেটের যে কোনো সমস্যা যেমন বদহজম নিরাময়ে সহায়তা করে। এক কাপ গরম পানিতে একটি এলাচ পিষে দিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন হজমের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।

শ্বাসকষ্টে:

মধু, লেবুর রস, গরম পানির সাথে একটা এলাচ পিষে মিশিয়ে পানিটুকু পান করালে তা শ্বাসকষ্ট দূর করবে। যারা হুপিংকাশি ও ফুসফুস সংক্রমণের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য এলাচ খুবই উপকারি।

হাঁপানি ও হৃদরোগ দূর করে:

এলাচ হাঁপানি ও হৃদরোগ নিরাময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন কএরে। হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়া এলাচ রক্তসঞ্চালনে সহায়ক। এলাচের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যায়।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে:

মুখের দুর্গন্ধ সকলের জন্যই একটা বিব্রতকর সমস্যা। অনেকেই মুখের দুর্গন্ধজনিত সমস্যায় পড়ে থাকেন। ভালো ভাবে মুখ পরিস্কার করার পরও কারো কারো মুখে থেকে যায় দুর্গন্ধ। একটি এলাচ নিয়ে চিবোতে থাকুন। দেখবেন একেবারে দূর হয়ে গিয়েছে দুর্গন্ধ।

চুলকানি প্রতিরোধেঃ

চুলকানি ভালো ভোগাচ্ছে, সাধারণ মলম ব্যবহারেও রেহাই নেই। এ ক্ষেত্রে বড় এলাচি চন্দনের মতো গষে গাগিয়ে এক ঘন্টা পর ধেয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যাবে।

মাথা ব্যাথা দূর করে:
গরম পানিতে এলাচ গুড়ো ও মধু দিয়ে ফুটিয়ে তৈরি করে নিন এলাচ চা। মাথা ব্যথায় ভুগে থাকলে এক কাপ গরম এলাচ চা খেয়ে দেখুন। দেখবেন মাথা ব্যাথা নিমেষেই দূর হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও এলাচ চা মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

রুপ চর্চায়:
এতে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই ত্বকের সমস্যায় এলাচ খুব উপকারি। কারণ ভিটামিন সি রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। কারো ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ থাকলে তা দূর করতে এলাচ বেটে দাগে নিয়মিত লাগালে দাগ চলে যাবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে:
কোষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বরে উভয় সমস্যায় এলাচ খুব কাজের। এলাচ, বেল ও দুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে গরম করুন। দুধ যখন ঘন হয়ে আসবে তখন তা একটু ঠাণ্ডা করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমে যাবে।

হঠাত্‍ পেশি টানেঃ

হাই তুলতে বা বিশি হাসলে অথবা ভারী জিনিস তুলতে গেলে কখনো কখনো শরীরের কোনো কোনো জায়গায় টান ধরে। এ ক্ষেত্রে ছোট বা বড় এলাচি গরম পানিতে গুলে ছেঁকে খাওয়ালে তত্‍ক্ষণাত্‍ উপশম হয়। সপ্তাহখানেক প্রতিদিন খেলে ঐ উপসর্গ আর দেখা দেবে না।

গায়ের দুর্গন্ধেঃ

বড় এলাচি বেটে গায়ে মেখে কিছুক্ষণ পর গোসল করে ফেললে গায়ের দুর্গন্ধের মতো অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। দুএকটি দানা মুখে পুরে রাখলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে।

এরকম শত শত প্রাকৃতিক গুনাবলি আল্লাহ তায়াল এলাচের মধ্যে দিয়েছেন। আর তাই মশলার হগতে এলাচকে মসলার রানী বলা হয়ে থাকে ।

Leave a Reply