পঙ্গপাল ধরে টাকা আয় করছে পাকিস্তান | Pongopal Business Pakistan

Pongopal Business Pakistan | 

পঙ্গপাল যেখানে হামলা করে সেখানের সব ফসলের বারোটা বাজিয়েই ছাড়ে। ইতিমধ্যেই তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপালের ক্ষয়ক্ষতি ও আক্রমের শিকার হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে এই দুই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এই সংকটকে কাটিয়ে উঠতে নতুন একটি সমাধান খুঁজে নিয়েছেন পাকিস্তানী কৃষকরা। পঙ্গপাল শুধু দমনই নয়, এবার তারা সংগ্রহ করে বিক্রি করে আয় করা শরু করে দিয়েছে মোটা অংকের টাকা। আর এমনটিই ঘটেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়। Pongopal Business Pakistan.

Pongopal Business Pakistanক্ষুদ্র এ পতঙ্গ ঝাককে তারা ব্যবহার করতে শুরু করেছে হাস মুরগির খাবার হিসেবে। পরীক্ষায় দেখা গেছে পঙ্গপালে রয়েছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন। আর তাই এই হাস মুরগীর খামারের জন্য এই খাবারের চাহিদায় বৃদ্ধি হচ্ছে দিনকে দিন। ওকারা জেলায় আশ্চর্যজনক এই প্রকল্পটি শুরু করেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী। জোহর আলী বলেন, ‘আমরা যখন শুরু করলাম তখন আমাদেরকে অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখনও পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি।’ খুরশিদ বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিল, ‘পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে’। আর আমরা ঠিক সেটাকেই কাজে লাগিয়েছি, তবে সরাসরি আমরা খাচ্ছি না, আমাদের গৃহপালিত পশুদেরকে খাওয়াচ্ছি।

ইতিমধ্যেই এই দুজন গবেষক মিলে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং জন সাধারণের মধ্যে এই বিষয়টিকে ভালভাবে বুঝিয়ে সবাইকে এই প্রকল্পে উদ্ধদ্দ করেন। স্থানীয় প্রকল্পের আওতায় ধেয়ে আসা পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে সবেইকে। প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষকদেরকে প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে পাকিস্তানি ২০ রুপি করেও দেয়া হয়। 

খুরশিদ বলেন, ‘পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়, রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোন কোন কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।’

আলী বলেন, ‘প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চর্তূদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।’

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, ‘পঙ্গপাল যদি কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ধরা যায় তবে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে সয়াবিন আমদানি করে প্রাণীর খাবার তৈরি করি, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ।পঙ্গপালে আমাদের খরচও পড়ে অনেক কম।’

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। আলি বলেন, ‘এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে, আমরা প্রকল্পটি আবার শুরু করব। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, আমরা তাদের আয়ের জন্য এ সুযোগকে কাজে লাগাব।’

সুত্র: অনলাইন।

Leave a Reply