মৃত্যুপথযাত্রী বাংলাদেশী যুবকের শেষ ইচ্ছা পুরণ করলো সিঙ্গাপুর | Singapore News

Singapore News | Humanity is Still Alive |

মৃত্যুপথযাত্রী এক বাংলাদেশী যুবকের শেষ ইচ্ছা পূরণ করে এক বিশাল মহানুভতা দেখালেন সিঙ্গাপুরিয়ানরা। তাদের এমন দৃষ্টান্ত ভরা মহানুভবতা চারিদিকে প্রশংসার জোয়ারে বইয়ে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর পত্রিকা স্ট্রেইট টাইমস এই বিষয়টিকে সম্মানের সহিত তুলে ধরা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিক শিকদার রানা সিঙ্গাপুরেরই একটি শিপইয়ার্ডে কাজ করতেন। বেশ ভাল ভাবেই চলছিল সবকিছু। Singapore News ‍about Shikdar Rana.

Singapore Newsকিন্তু হঠাৎই একইদিন শিকদার রাানা অসুস্থথা বোধ করেন এবং সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায় শিকাদার রানা পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং তার বর্তমান অবস্থা খুবই গুরুতর। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছিলো যে তার জন্য বেশি দিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। ডাক্তারের মুখে নিজের আসন্ন মৃত্যুর কথা জেনে শিকদার তার ছয় বছরের সন্তানকে শেষবারের মত দেখতে ও বুকে জড়িয়ে নিতে চান। এমতাবস্থায় এই দূরদেশের বাবাকে দেশে ফেরার জন্য ১৯ মে ২০২০ এ সকল বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়। কিন্ত প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মাঝপথে বাধা হয়ে দাড়ালো। কারণ ইতমধ্যেই ১৪ মের লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

যেকারণে সব ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায় রানা শিকাদারের দেশে ফেরার সব আয়োজন। বাংলাদেশে ঘোষিত লকডাউন ৩০ মে পর্যন্ত শিকদার রানা নাও বেঁচে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন সিঙ্গাপুরিয়ান চিকিৎসকেরা। এমন পরিস্থিতীতে এগিয়ে আসেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার সাপোর্টিভ অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ ডিভিশনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সিনথিয়া গোহ। সহকর্মীদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারেন শিকদারের শেষ ইচ্ছার কথা। তিনি দ্রত খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সিঙ্গাপুর টু বাংলাদেশে মেডিকেল এভাক্যুয়েশন ফ্লাইট এর খরচ লেগে যাবে প্রায় ৫৫ হাজার ডলার। একইসঙ্গে সামনের মাসের আগে বাণিজ্যিক কোন ফ্লাইটও নেই অন্যদিকে শিকদারের হাতে সময়ও নেই।

বাড়তী সহযোগিতার খোঁজ করতে ডা. সিনথিয়াকে মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারে (এমডব্লিউসি) পাঠানো হয়। উল্লেখ্য যে এটি সিঙ্গাপেুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স সমর্থিত অভিবাসী শ্রমিকদের একটি কল্যাণমূলক সংস্থা। ডা. সিনথিয়া গোহের অনুরোধে সংস্থাটি সিকদার রানাকে সহযোগিতার জন্য দু’টি পথ বের করে নেন। ডোনেশনের জন্য আবেদন করা এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সোশ্যাল সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট আনিতা ফ্যাম ও এমডব্লিউসি’র চেয়ারম্যান ইয়ো গুয়াত কোয়াং এর ব্যক্তিগত ক্ষমতায় মেডিক্যাল এভাক্যুয়েশনের খরচ বহন করা। এরই ভিত্তিতে অবশেষে রানাকে দেশে ফেরাতে গত শুক্রবার একটি গ্যারান্টি লেটারের অনুমোদন দেয় মেডিকেল এভাক্যুয়েশন কোম্পানি, হোপ মেডফ্লাইট এশিয়া। সেইসঙ্গে এয়ারক্রাফট ইউনিয়নের মাধ্যমে ফ্লাইট খরচও বেশ খানিকটা ছাড়ও আদায় করে নেয় এমডব্লিউসি। এয়ার সংস্থাটি তাদের সাধারণ বিলকে কমিয়ে ৫৫ হাজার ডলার থেকে ৪৮ হাজার ডলারে নিয়ে আসেন।

এছাড়াও বর্তমানে Giving.sg নামের একটি ডোনেট সাইটের মাধ্যমেও শিকদারের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সেখানে ৬০ হাজারেরও বেশী ডলার জমা হয়েছে। ফান্ড এর সকল অর্থ শিকদারের ফ্লাইট খরচ মেটানো সহ বাকি অর্থ তার পরিবারকে দেওয়া হবে। এরকম অনেক বাধা বিপত্তির মোকাবেলা করে অবশেষে সিঙ্গাপুরিয়ানরা তাদের অশেষ মহানুভবতায় গত শুক্রবার দেশে পাঠিয়ে দেন মোঃ শিকদার রানাকে। এবারের ঈদুল ফিতরটাও তাই অভাবনীয় ভাবে পরিবারের মা, স্ত্রী ও ছেলে সন্তানদের সাথেই পালন করতে সক্ষম হন শিকাদার। ঈদে খেয়েছেন মায়ের হাতের রান্না করা সেমাই ও খিচুড়ি। শিকদার তার আবেগে ভরা অনুভবে বলেন, হয়ত এটিই আমার শেষ ঈদ, তবে আল্লাহর শুকর দীর্ঘদিনপর আমি আমার মায়ের হাতের খাবারের স্বাদ নিতে পারলাম, মনে হচ্ছে আমি যেন বেহেশতে আছি।

সোর্স: অনলাইন।

Leave a Reply